বসন্ত নিয়ে আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুল ইসলাম

পলাশ ও শিমুলর বন

ঋতুরাজ বসন্তের উপমায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুল ইসলাম

ফাল্গুনের হাত ধরেই বাংলার প্রকৃতিতে আগমন ঘটেছ ঋতুরাজ বসন্তের। শীতকালে ঝরে পড়া পাতার ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে গাছে গাছে আবার নতুন পাতা গজায় , পাতার ফাঁকে বসে কুহু-কুহু গান ধরে কালো কোকিল এবং ফুলে ফুলে ভরে যায় গাছগাছালি। মনের আনন্দে পাখিরা গান গাইতে শুরু করে এই বসন্তে। চারিদিকে শুধু ফুলের মৌ মৌ সুগন্ধ। আর তাই ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির পাশাপাশি রঙ্গিন সাজে বর্ণিল উৎসবে মেতে উঠে তরুণ-তরুণীরা।

আজি এই বসন্তে
আজি এই বসন্তে

বসন্ত নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ অনেকেই লিখেছেন গান, কবিতা, তবে সত্যি বলতে বসন্ত নিয়ে বর্তমান সময়ে খুব একটা রচিত হয়নি গান-কবিতার পঙ্ক্তিমালা। তাছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্ত নিয়ে অনেক গান-কবিতা লিখেছেন। তার মায়ার খেলা গীতিনাট্যে….

‘আহা আজি এই বসন্তে,
এতো ফুল ফোঁটে,
এতো বাঁশি বাজে এতো পাখি গায়।’

কবিগুরু ছাড়া যেমন বসন্ত অসম্পূর্ণ তেমনি প্রেমের কবি নজরুলও বসন্তকে তুলে এনেছেন কবিতা ও গানে| কাজী নজরুল ইসলাম বসন্ত নিয়ে লিখেছেন একটি গানে-

‘বসন্ত আজ আসলো ধরায়,
ফুল ফুটেছে বনে বনে,
শীতের হাওয়া পালিয়ে বেড়ায় ফাল্গুনী মোর মন বনে।’

অথবা

‘বসন্ত এলো এলো এলোরে,
পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহুরে।’

বসন্ত উৎসব শান্তিনিকেতন

ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, এই উৎসবের অপর নাম বসন্তোৎসব। শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব পালনের রীতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই চলে আসছে।
বসন্ত মানেই পূর্ণতা, বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানেই একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। এখানে বসন্ত উত্সবের দিন বাইরে থেকে প্রচুর জন সমাগম হয়| কারণ, এখানের প্রাকৃতিক পরিবেশে শীতের খোলসে ঢুকে থাকা শাল, পলাশ, শিমুলর বনাঞ্চল অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠে| মনে হয় গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা করছে। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তে সাজ সাজ রব।

বসন্ত উত্সব শান্তিনিকেতন
বসন্ত উত্সব শান্তিনিকেতন

এই দিন সাজপোশাকেও তাই প্রাধান্য পায় ফুল। লাল, হলুদ, বেগুনি নানান ফুলের সমাহার। চারিদিকে শুধু ফুলের মৌ মৌ সুগন্ধ। তাইতো কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়-

বসন্তর পলাশ ও শিমুলর সমাহার
বসন্তর পলাশ ও শিমুলর সমাহার

‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক
আজ বসন্ত’।

উৎসবের দিনে তরুণ-তরুণীদের যেন আজ কোথাও হারিয়ে যেতে নেই মানা। বাসন্তী রঙা শাড়ি পরে, খোঁপায় গাঁদা, পলাশসহ নানা রঙের ফুল গুঁজে তরুণীরা বেরিয়ে পড়বেন। আর ছেলেরা লাল-হলুদ, বাসন্তী রঙ্গের পাঞ্জাবি আর ফতুয়ায় নতুন করে নিজেদের সাজিয়ে নেমে আসবে পথে। সেই আবেগে গুঞ্জরিত হতে থাকে-

বসন্ত উত্সব শান্তিনিকেতন
বসন্ত উত্সব শান্তিনিকেতন

‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে
সই গো, বসন্ত বাতাসে’

এই উৎসবের একটি ধর্মনিরপেক্ষ দিকও রয়েছে। এই দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়।

বসন্ত উত্সব
বসন্ত উত্সব

এ ঋতু বাসন্তী রঙে সাজায় মনকে, মানুষকে করে আনমনা। এ এক অপূর্ব অনুভুতির হাওয়া প্রকৃতিতে বয়ে চলে পুরো বসন্ত জুড়ে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s